আমাদের কথা
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। ইমলাম ধর্মে নারী পুরুষ নির্বিশেষে সকলের জন্য দ্বীন শিক্ষা করা ফরজ। এক্ষেত্রে পুরুষ ও নারীতে কোনো পার্থক্য করা হয় নি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে পুরুষগণ যেমন দ্বীন ও নৈতিক শিক্ষা লাভ করতেন তেমনি নারীদের দ্বীন শিক্ষার জন্য ছিল আলাদা সময়। সেই সময় নারীগণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরবারে শিক্ষা গ্রহনের জন্য উপস্থিত হতেন। হযরতের বিবিগনের মধ্যে বিশেষ করে হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রাদি.) শুধু নারীদেরই নন পুরুষদেরও শিক্ষক ছিলেন। শিক্ষার এই প্রাচীন ধারায় যুগে যুগে অবদান রেখেছেন পুরুষের পাশাপাশি মহীয়সী অনেক নারী। আমরা কেবল একাজের নিমিত্তি হয়ে জাতীর সামান্য খেদমত করার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছি।
সম্মানিত অভিভাবক! পিতা-মাতার কাছে সন্তান আল্লাহ তায়ালার এক বড় আমানত। মুসলমান হিসাবে আমরা প্রত্যেকে এই আমানতের পরিচর্যা করে থাকি। আমরা চাই আমাদের প্রিয় সন্তান নৈতিক , ইসলামিক ও আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত একজন আলোকিত মানুষ হোক। কিন্তু নৈতিকতার চরম অবক্ষয়ের এ যুগে সন্তানের সুশিক্ষা নিয়ে উদ্বিগ্ন সকল সচেতন অভিভাবক। একটি শিশুর মানসপটে নৈতিক মূল্যবোধের বীজ বপন করা হয় পরবর্তী জীবনে তারই প্রতিফলন ঘটে থাকে। ইসলামিক শিক্ষা ছাড়া শুধু জাগতিক শিক্ষার মাধ্যমে একটি শিশুকে কোনো দিন নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন আদর্শ মানুষ ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা যায় না। তাই শিশুর প্রাথমিক বুনিয়াদী শিক্ষাটা ধর্মীয় ও কুরআন হাদীসের শিক্ষার ভিত্তিতে বাধ্যতামূলকভাবে হওয়া উচিৎ। একজন মুসলিম সচেতন অভিভাবক হিসেবে আমাদের প্রত্যেকের মনে রাখা উচিত যে , সন্তানকে ইসলামিক শিক্ষা দেওয়া সকলের জন্য ফরজ। সামান্য উদাসীনতা এবং একটু ভুল সিদ্ধান্তের কারনে একটি সন্তানের জীবন অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যেতে পারে। নষ্ট হয়ে যেতে পারে তার দুনিয়া ও আখিরাত। চরম মাশুল গুনতে হতে পারে আমাদের দেশ ও জাতীর। আলহামদুলিল্লাহ, জাতীর এই মহান খেদমতকে আনজাম দেওয়ার এক বৃহৎ লক্ষ নিয়ে পথ চলা শুরু করেছে জামিলা আইডিয়াল বালিকা মাদরাসা। আমরা আমাদের সাধ্যের সবটুকু উজার করে এই মহান আমানত পরিচর্যায় সচেষ্ট থাকব, ইনশাআল্লাহ। আমরা শিক্ষার মান নিয়ে ক্রমাগত এগিয়ে যেতে চাই। লক্ষ্য আমাদের বহুদূর। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের এই পথ চলাকে সহজ করুন ,আমীন।
মনিষীর বাণী
একটি শিশু মানব বাগানে ফুল হবে কিংবা কাঁটা হবে। তোমরা যদি শিশুটির যত্ন নাও তাকে ইসলামী শিক্ষা দাও, নবীজির আর্দশে গড়ে তোলো, তাহলে সে ফুলের মত হবে। গোলাপের মত সুন্দর হবে। পৃথীবির এই মানব বাগানে ফুলের মত সুবাস ছড়াবে, মানব বাগান চির সুন্দর থাকবে। আর যদি অবহেলা কর, তার জীবনে ইসলামী শিক্ষার পরিবর্তে ধর্মহীন শিক্ষার বিষ ঢেলে দাও, তাহলে পৃথিবীর বাগানে নর ফুল না হয়ে সে কাটঁ হবে। কাঁটা যেমন বাগানের সৌন্দর্য নষ্ট করেএ শিশুটিও মানব বাগানের সষসমাবিনষ্ট করবে ।কাঁটা যেমন মানুষের শরীরে বিঁধে রক্ত ঝড়ায়, কষ্ট দেয়, এশিশুটিও মানব বাগানে কাঁটা হয়ে একদিন রক্ত ঝড়াবে, বিষ ছড়াবে।
(আল্লামা আবুল হাসান আলী নদভী রহ.)
উপসংহার
দেশ ও জাতীর এক মহা কল্যাণকে সামনে রেখে সূচনা হয়েছে ‘জামিলা আইডিয়াল বালিকা মাদরাসা। আমরা আশা রাখি আমাদের পরিমার্জিত পরিকল্পনা বাস্তবরূপ নিলে অন্যায় বেহায়াপনা ও অশ্লীলতার এ যুগে আমাদের মেয়ে সন্তানেরা হবে আলোকিত আদর্শ রমণী। ফলে ঘর হবে সুখময় , সমাজ হবে শান্তিময়।
আমাদের একার পক্ষে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন ছাত্রী অভিভবক, শিক্ষক-শিক্ষিকাসহ সকলের একান্ত কল্যান কামনা। মহান রাব্বুল আলামীন আমাদের সকলকে তাঁর দ্বীনের জন্য কবুল করুন এবং আমাদের মাদরাসা পথ চলাকে সহজ ও সফল করুন ।
আমিন।